ঢাকা, শনিবার, ২০ অক্টোবর ২০১৮ | ০৮ : ৪২ মিনিট

February 18th, 2016

গ্যা রি  জে  ব্যা স

পাকিস্তানের অবশেষে হার মেনে নেওয়ার খবর শুনে একদল যুদ্ধবিধ্বস্ত মুক্তিযোদ্ধা যারপরনাই আনন্দ বোধ করছিলেন। তাঁরা পরিত্যক্ত সব বাস খুঁজতে খুঁজতে তাতে বিদ্রোহীদের উঠিয়ে নিচ্ছিলেন। শহরের সমস্ত অলিগলি, রাস্তা আর বাসাবাড়ির সব ছাদ কানায় কানায় জনমানসে পূর্ণ ছিল। সব স্থানে ধ্বনিত হচ্ছিল ‘জয় বাংলা’। ভিড়ে পরিপূর্ণ শহরের এ অচেনা রূপ দেখে এক বিদ্রোহী লিখেছিলেন, ‘অবশেষে বুঝি মুক্তির স্বাদ পেলাম।’ এই সামান্য যুদ্ধের কারণে দক্ষিণ এশিয়ার কর্মকর্তাদের অন্তরঙ্গতায় ভাটা পড়েনি। এমনকি ঢাকায় প্রথম ভারতীয় সেনাবাহিনীর আমলের সময়ও। জনৈক ভারতীয় সেনা কর্মকর্তা জেনারেল নিয়াজিকে ব্যক্তিগতভাবে চিনতেন। তিনি জেনারেল নিয়াজিকে লেখেন, ‘প্রিয় আবদুল্লাহ, আমি চলে এসেছি, খেলা শেষ, নিজেকে আমার কাছে সমর্পণ করে দাও। আমি তোমার দায়িত্ব নেব।’

১৬ ডিসেম্বর জেনারেল নিয়াজি ‘মানবজীবনের রক্ষা নিশ্চিতকরণে প্রধান বিবেচ্য বিষয়’ হিসেবে পূর্বকণ্ঠের কাছে আত্মসমর্পণ করেন। ইস্টার্ন কমান্ডের প্রধান জেনারেল মানেকশ জেনারেল জ্যাকবকে দ্রুত হেলিকপ্টারে ঢাকা প্রেরণ করেন, যেন জেনারেল জ্যাকব এই আত্মসমর্পণে নিঃশর্তে মধ্যস্থতা করে আসতে পারেন। জ্যাকাবর স্মরণে ছিল, সর্বত্র তিন হাজার ভারতীয় সৈন্যবাহিনী ঢাকার বাইরে থাকলেও প্রায় ২৬ হাজারের মতোন পাকিস্তানি বাহিনী ঢাকার ভেতরে অবস্থান করছিল। মানেকশ তাঁকে ডেকে বললেন, ‘যাও, আত্মসমর্পণ করিয়ে আসো।’ জেনারেল জ্যাকব দ্রুত পায়ে হেলিকাপ্টারের দিকে এগিয়ে গেলেন। সেখানে ছিলেন জেনারেল অফিসার কমন্ডিং ইন চিফ জগজিত্ সিং আরোরার স্ত্রী। তিনি জানালেন, ‘আমার স্থান আমার স্বামীর পাশে।’ জেনারেল জ্যাকব যখন ঢাকায়, তখনো মুক্তিবাহিনী আর পাকিস্তানি বাহিনীর অবিরাম যুদ্ধ চলছিল। তিনি গাড়িতে থাকা অবস্থায় এক বিদ্রোহী গুলি চালালে তিনি তত্ক্ষণাত্ নেমে পড়েন। ভারতীয় সেনাবাহিনীর জলপাই রঙের ইউনিফর্ম দেখলে গুলিবর্ষণ থেমে যায়। জেনারেল জ্যাকবের স্মরণে আছে, যখন তিনি পাকিস্তানি হেডকোয়ার্টারে যান, জেনারেল নিয়াজি বলছিলেন, ‘কে বলেছে আমি আত্মসমর্পণ করেছি? আমি তো এসেছি যুদ্ধবিরতি করতে।’ একা থাকার পরও অধিক …ভারতীয় সেনাবাহিনীর উপস্থিতি জেনে জেনারেল জ্যাকব এক কোণায় নিয়ে গেলেন। বললেন, ‘আমি বলছি, তুমি আত্মসমর্পণ করে নাও। আমরা তোমার পরিবারের আর তোমাদের সংখ্যালঘুতার কথা মাথায় রাখব। আর যদি তা না করো, তবে কিছু করার নেই। একটা বিহিত না করে আমার যাওয়া হচ্ছে না।’ জেনারেল জ্যাকব বলেন, তাঁকে বেয়োনেট বিদ্ধ করার মনোবাসনা থেকেই তিনি এ ব্ল্যাকমেইলটি করেছিলেন। ‘তোমাকে ৩০ মিনিট সময় দিচ্ছি। যদি রাজি না হও তবে আমি ঢাকার মাঝে বোমা নিক্ষেপ আর আরও কঠোরভাবে যুদ্ধবিগ্রহ চালিয়ে যাবার নির্দেশ পাঠাব।’এ কথা বলে বাইরে যাবার জন্য উদ্যত হলেন জে জ্যাকব। আর মনে মনে ভাবতে লাগলেন, ‘হায় ঈশ্বর! আমার হাতে কিছুই নেই।’ তবে জেনারেল নিয়াজি জানতেন যে বাইরে এখনো কত শত মুক্তিবাহিনীর সেনারা বল্লমের অগ্রভাগ বাগিয়ে ধরে তাঁর অপেক্ষায় আছে। তিনি আত্মসমর্পণ করলেন।

অবশেষে যুদ্ধে স্থায়ীভাবে বিরতি এল। সাথে এল ভারতীয় সেনাবাহিনী, মুক্তিবাহিনী আর গেরিলা বাহিনীর উল্ল্লসিত ঢল। ১৬ ডিসেম্বর জেনারেল নিয়াজি অশ্রুভেজা চোখে জেনারেল জ্যাকবের কাছে রেসকোর্স ময়দানে আত্মসমর্পণ করেন। তাঁকে ঘিরে ছিল হিন্দু প্রতিবেশীরা। গত বসন্তে কিছু পাকিস্তানি সৈন্য তাদের ওপর হামলা করেছিল। পাকিস্তানের মর্যাদা অক্ষুণ্ন রাখাপূর্বক জে. জ্যাকব, বললেন যে, ভাবগাম্ভীর্যপূর্ণ আনুষ্ঠানিকতায় এ আত্মসমর্পণ শেষ হয়েছে। নিয়াজি অরোরার হাতে তুলে দিয়েছিলেন একটি পিস্তল। ‘সিডনি স্ক্যানবার্গ’ ‘নিউইয়র্ক টাইমস’-এ ছাপানোর জন্য একজন ইহুদি ভারতীয় জেনারেলের কাছে পাকিস্তানি জেনারেলের আত্মসমর্পণের কাহিনি ফলাও করে লিখতে চেয়েছিলেন, তো জ্যাকব তা হতে দেননি। জেনারেল অরোরা উচ্ছ্বসিত জনগণের চোখের মণি হয়ে ছিলেন। মুক্তির স্বাদে উন্মাতাল জনগণ তাকে শূন্যে ছুড়ে দিয়ে আবার ধরে ফেলেছিল। কিছু কিছু স্থানে তখনও অন্তর্যুুদ্ধ চলছিল, তবে তা ছাপিয়ে কানে বাজছিল ফাঁকা গুলি আর ‘জয় বাংলা’ ধ্বনি।

জে. মানেকশ ফোন মারফত ইন্দিরা গান্ধীকে এ সুসংবাদ দেন। উচ্ছ্বসিত ইন্দিরা গান্ধী দৌড়ে যান লোকসভায়। মুহূর্তে জানান দেন সংসদে, পাকিস্তানিরা নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ করেছে। ‘ঢাকা এখন মুক্ত দেশের মুক্ত রাজধানী।’ সন্তুষ্টি তাঁর গলায়। তিনি আরও বলেন, ‘এই জয়োত্সবের সময়ে প্রীতি সম্ভাষণ জানাই বাংলাদেশিদের প্রতি।’

ইন্দিরা গান্ধী যখন ভারতীয় সেনাবাহিনী এবং মুক্তিবাহিনীর প্রশংসা করে জানান যে, উভয়ই পাকিস্তানি যুদ্ধবন্দীদের প্রতি জেনেভা কনভেনশন অনুযায়ী ব্যবহার করবে, সবাই সাদরে তাঁকে সম্ভাষণ জানান। আর বলেন, ‘সাহসী বাংলাদেশি জনগণের ও তাদের মুক্তিবাহিনীর সহায়তা করার সাথে সাথে তাদের ভূখণ্ডকে সন্ত্রাসমুক্ত করে তোলা এবং নিজেদের মাটিতে সব সন্ত্রাসী আগ্রাসন রুখে দেওয়াই ছিল আমাদের মূল উদ্দেশ্য। শূন্যে কাগজ ছুড়ে দিয়ে, মুহুর্মুহু হর্ষধ্বনিতে সাংসদদের উল্লাস তখনো চলছিল।

 

আত্মসমপর্ণের অপর দিকটা কিন্তু ঠিক ততটাই কদাকার ছিল। পাকিস্তানিদের সংখ্যালঘুতার কথা মাথায় রেখে তাদের সঙ্গে যথাযথ ব্যবহার করার ক্ষেত্রে তো অরোরা ভারতের কাছে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ ছিলেন। এক ভারতীয় সেনা স্ক্যানবার্গকে জানান, ‘যদি আমরা ওদের (পাকিস্তানি যুদ্ধবন্দী) সঠিকভাবে নিরাপত্তা না দিই তবে প্রতিরোধের অপেক্ষায় থাকা মুক্তিবাহিনী হাতের নাগালে পেলে রোষটা ভালোভাবেই কেড়ে নেবে।’ ভারতীয় সেনারা আক্রমণ হতে বাঁচানোর জন্য রাস্তা থেকে ধরে ধরে এনে পাকিস্তানি সেনাদের আত্মসমর্পণ করিয়েছিল। প্রতিশোধের আগুনে জ্বলছিল বাঙালিরা। তাদের রোষানল হতে বাঁচাতে হাতে অস্ত্র রাখার অনুুমতি দিয়েছিলেন জে. অরোরা।

ভারতীয় সেনারা প্রতিশোধমূলক হত্যাকাণ্ড সম্পূর্ণভাবে রোধ করতে অপারগ ছিলেন। ইন্দিরা গান্ধী স্বীকার করেন, এই প্রতিশোধমূলক হত্যা থামিয়ে দিতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হওয়ার ব্যাপারে প্রধান বাধা ছিল তাঁদের সীমাবদ্ধতা। লস অ্যাাঞ্জেলেস টাইমসের রিপোর্টার পাঁচজন সাধারণ নাগরিককে যুদ্ধে পাকিস্তানি বাহিনীর সহচর সন্দেহে মৃত পড়ে থাকতে দেখেছিলেন। ‘রক্ত হিম করে দেওয়া নৃশংস প্রতিশোধমূলক হত্যাকাণ্ড চলছে বাঙালিদের মাঝে।’—পত্রিকায় শিরোনাম করে। ভারত তবুও গেরিলাদের নিরস্ত্র করে যাওয়ার কাজ করছিল। একজন গেরিলা নেতাকে অবরুদ্ধ করা হয়, তিনি ভিড়ের মধ্যমণি হতে চারজন পাকিস্তানের সহচর সন্দেহভাজনকে নির্যাতন করছিলেন। কিছুকাল পর সিআইএ পরিস্থিতি শান্ত হয়েছে বলে রিপোর্ট দেয়।

পশ্চিম পাকিস্তানে ট্যাঙ্কযুদ্ধ তখনো চলছিল। ভারতের যুদ্ধকালীন পরিকল্পনা জানার এটাই ছিল উপযুক্ত সময়। তারা হয় মুক্তির ঘোষণা দিয়ে বাংলাদেশ ত্যাগ করতে পারত, না হয় শক্তিশালী বহর নিয়ে পশ্চিম পাকিস্তান আগ্রাসনে নেমে পড়তে পারত। পশ্চিম পাকিস্তান হয়ে পড়ল অশান্ত আর, গুজব শোনায়। বাংলাদেশে মৃতের সংখ্যা দাঁড়ালো ভারত-পাকিস্তানের মৃত সৈন্যদের সম্মিলিত সংখ্যারও বেশি। ভারত জানার মৃতের সংখ্যা প্রায় ৩ লাখ ছিল। সিডনি স্ক্যানবার্গে তাদের বিশ্বস্ত সূত্র দিয়ে ‘নিউইয়র্ক টাইমস’-এ জানায়, ঢাকার কূটনীতিবিদদের মতে এ সংখ্যা শত শত হাজার। ২৫ মার্চের পর থেকে ধরলে এ সংখ্যা সাড়ে ১০ লাখে দাঁড়ায়। ভারত বেশি সংখ্যায় ধরলেও পাকিস্তান জানায় মৃত মোট ১ লাখ বা কাছাকাছি। তাত্ক্ষণিকভাবে স্বরন সিং জানান, এ সংখ্যা ১০ লাখই হবে। যুদ্ধ শেষ হবার কিছু আগে এনবিসিতে কর্মরত ভারতীয় গণমাধ্যমকর্মী গীতা মেহতা ইন্দিরা গান্ধীকে বাংলাদেশি শরণার্থীদের নিয়ে একটি তথ্যচিত্র দেন। পুত্র রাজীব গান্ধীকে নিয়ে তা দেখতে বসে বারবার অশ্রুভেজা চোখ মুছতে থাকেন তিনি।  তথ্যচিত্রে কিছু বাচ্চাকে দেখেন তিনি, যারা ছিল ঠিক রাজীবের বয়সী।

জে. জ্যাকবকে পাকিস্তানের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনের অভিযোগে অভিযুক্ত করা হলে ক্ষোভে ফেটে পড়েন তিনি। ‘জানেন কী হচ্ছে ওখানে?’ বলেন তিনি। ‘হত্যা করা হচ্ছে, ধর্ষণ করা হচ্ছে আর গণহত্যা কী পরিমাণে করা হয়েছে সে কথা জানেন? এক কোটি শরণার্থীই রয়েছে, এদের কী হবে, সেটা বলুন আগে?’ বাংলাদেশে থাকাকালীন একটি ডায়েরি পড়েন তিনি। সেখানে বোয়োনেট বিদ্ধ করে মানুষকে মেরে ফেলার কথা ছিল, তিনি এটাকে বলেন ‘ভয়ংকর ধরনের গণহত্যা’। ‘আমার মনে হয় নািস বাহিনীও এতটা করেনি।’  ক্রোধে তিনি বলেই চলেন, ‘তারা হত্যা করেছে। গণহত্যা, হাজার হাজার মানুষকে গণহত্যা। ধর্ষণ করেছে, মানুষ, কত শত হাজার হাজার, ২৫-২৬ মার্চ রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে হওয়া কাহিনি শুনেছি আমি। নৃশংসভাবে ছাত্রদের মেরে ফেলা হয়েছে। চুপ থাকতে বলছে তো? কোনো সমস্যা নেই।’ কিছুক্ষণ পর শান্ত হয়ে তিনি বলেন, ‘এ ব্যাপারে আমার কোনো দ্বিমত নেই। এর জন্য আমি গর্ববোধ করছি।’

আত্মসমর্পণের পরপরই যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশ ঘুরে দেখেন স্ক্যানবার্গ। সেখানেই ‘নিউইয়র্ক টাইমস’-এর প্রতিবেদক গেলেন, বাংলাদেশিরা সেই হত্যাকাণ্ডের স্থানগুলো দেখাচ্ছিল যেখানে দল বেঁধে দাঁড় করিয়ে একের পর এক গুলিবিদ্ধ করা হয় সাধারণ সব মানুষকে। ‘নদীতে খুঁজে দেখো হাড়গোড় পাবে। ওখানেও মানুষ মেরে মেরে ফেলা হয়েছে।’ ঢাকার পার্শ্ববর্তী এক করবস্থানে দেখলেন বারো-তেরো বছর বয়সী এক ছেলেকে। অস্থির আঙুল চালিয়ে মাটি খুঁড়ে সে বের করছিল মানুষের হাড়গোড়, কঙ্কাল, খুলি। জিজ্ঞেস করাতে সে বলল, সে তার মৃত বাবাকে খুঁজছে। সবই অগভীর কবর। একটি খুঁড়তেই মিলছে হাড়গোড়। বুঝতে বাকি রইল না। মৃত্যুপুরীতে পরিণত হয়েছে দেশটা।’

কিসিঞ্জার এইচ আর হেডেলম্যান আসন্ন যুদ্ধবিরতিকে ‘সত্যিই চিত্তানন্দদায়ক’ বলে আখ্যায়িত করেন। কিন্তু নিক্সনের মতামত ছিল ভিন্ন। মনমরা নিক্সন কিসিঞ্জারকে বলেন, ঢাকায় আত্মসমর্পণ করেছি।’

কিসিঞ্জারের উত্তেজনা স্পর্শ করেনি নিক্সনকে। পাকিস্তানের হার তাকে করে তুলেছিল বিষণ্ন ও মনমরা। কেন ফলাও করে পাকিস্তান বধের ভারতীয় পরিকল্পনায় সমালোচনা করেননি, তিনি এই নিয়ে কিসিঞ্জারের ওপর বীতশ্রদ্ধ হয়ে পড়েন। ভারতীয়দের সঙ্গে বিতর্কে জড়াতে চাইছিলেন তিনি। প্রয়োজনে কূটনৈতিক সম্পর্কোচ্ছেদেরও আপত্তি ছিল না তাঁর।

জর্ডান অবৈধভাবে পাকিস্তানে যুদ্ধবিমান পাঠাচ্ছে, এ বিষয়ে কিসিঞ্জার কর্তৃক আসমম্ভ নিক্সন বলেন, ‘ডযবহ ঃযব পযরঢ়ং ধত্ব ফড়হি ওহফরধ যধং ংযড়হি ঃযধঃ রঃ রং ধ জঁংংরধহ ংধঃবষষরত্ব.’ ক্রোধে ফেটে পড়েন তিনি।  ‘আমি জানি রাশিয়ার খেলাটাই শেষ খেলা হতে যাচ্ছে। এ যাত্রায় ভারতও একহাত দেখে নিল আমাদের। সবকিছু শেষ হয়ে যাবার পর তারা এসে ক্ষমা করে সব ভুলে যেতে বলবে।  কিন্তু তা … হবে না।’

এর পরপরই কিসিঞ্জার রাষ্ট্রপতিকে ফোন দেন পশ্চিম পাকিস্তানে যুদ্ধবিরতি করার খবর দেবার জন্য। তিনি বলেন, ‘অভিনন্দন প্রেসিডেন্ট! আপনি পশ্চিম পাকিস্তানকে বাঁচালেন।’ গভীরভাবে চিন্তা করে নিক্সন জানালেন, আগুন লাগিয়ে পরে তা নেভানোর জন্য কৃতিত্ব কাউকে দেয়া হবে না। হিটলারের মতোন কাজ এটা।

আলাদা আলাদা শাল্টজ আর হল্ডম্যানকে ডেকে কিসিঞ্জার বলেন, ভয়ংকরকে পরাজিত করেছি। ভারতবিরোধী অর্থসচিব জন কানলিকে ধন্যবাদ দেন তিনি। এরপর কোন কারণ রিপোর্টারদের আর দুর্বল যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা জোরদার করতে একে ওকে। ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূতকে বলেন, ‘জানি না। কীভাবে ভারতীয়দের সহ্য করেছো!’। কৌতুক করে জর্জ বুশকে বলেন, ‘বরাবরের মতোন সব গুলিয়ে ফেলো না।’

এসব হয়ে গেলে ট্রান্সফার চাই আমি। রুয়ান্ডার মতো শান্ত কোনো স্থানে— জর্জবুশ বলেন।

 

অধ্যাপক গ্যারি জে ব্যাস : বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রিন্সটন ইউনিভার্সিটির রাজনীতি ও আন্তর্জাতিক বিষয়াদি

 

অনুবাদ: রাইদা কাইয়ূম

Comments

comments